আনন্দধারা

জীবনে আনন্দের উপাদান  মাঝে মাঝে হঠাৎ ই এসেই পরে।বেশি সাধ্যসাধনা করতে হয়না। এই যেমন ব্লগ পড়তে বসেছি। পৃথিবী জোড়া লেখক লেখিকা। বেকার  মস্তিস্ক আমার। পড়ছি। ব্যবসা করার নানা বুদ্ধি । অসাধারন ৫৫ টা উপায়। ঘর গুছানো থেকে পোষ্য সামলানো বা চিমনি পরিস্কার  থেকে জলখাবার বানানো কিসে না ব্যবসা করা যায়! কিন্তু করলাম কি ! পড়ছি আর   নানা রকম  পরিণতি আর অবস্থা চিন্তা করে করে হেসে খুন হচ্ছি। ভেবেই আনন্দ হচ্ছে। এরকম নিষ্কর্মা  আনন্দ  কয়জনে করতে পারে বলুন তো !

আনন্দ  টা  বোধহয় সবার এক  হয় না। বোধহয় কেন! সত্যি তো। মেয়ের স্কুলে সেদিন  পরীক্ষার খাতা দেখাচ্ছে। সংস্কৃত খাতা। ২০ নম্বর। মেয়ে এসে বলল  জানো মা একটা মেয়ে ১৮ পেয়েছে বলে কাঁদতে শুরু করেছে আর ক্লাসের দুষ্টু ছেলেটা ১৫ পেয়ে ইয়া হু  বলে সে কি নাচ! আমি বলি সে কি রে! ১৮ পেয়েও খুশি না? আর ছেলেটা ১৫ তেই এত আনন্দ! ” হবে না ? ১৫ না পেলে  ত আবার পরীক্ষা দিতে হবে !” দুষ্টু ছেলেটার  আনন্দে আমারও খুব আনন্দ হল । শৈশব জিন্দাবাদ। শৈশবের আনন্দর তুলনা মেলা ভার। কিন্তু বুড়োদের আনন্দ কি দুর্লভ বস্তু?ছোট ছোট জিনিষে কচিদের উল্লাসের মতো উল্লসিত হবার সুযোগ বুড়োরা না খোয়ালেই তো পারে।

বিজ্ঞান গবেষণা বলছে আনন্দে থাকতে গেলে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করলে চলবে না। সে তো অক্ষরে অক্ষরে আমরা পুষিয়ে নিচ্ছি facebook আর whatsapp এ।তবে এত এক  আছোঁওয়া জগত।স্বপ্নের সঙ্গে অহরহ বসবাস।  কল্পনা আর বাস্তবের তো ফারাক থাকবেই ।তাই বলে আনন্দ টা  তো মিথ্যে হয়ে যায় না । এই যে  ,যাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ এর  সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে, তাদের  সঙ্গেও যে   আড্ডা দেওয়া যায়  কে কবে ভেবেছিল? আর বর্তমান যুগের হালহকিকত যা…আমরা তো ক্রমেই নিজেদের পাশে অদৃশ্য দেওয়াল তো তুলেই ধরেছি। তাই বলে কি আনন্দে থাকব না? আলবৎ থাকব। আগের দিনের মত নাই বা চললাম।  হ্যাঁ, নিজের আনন্দ টা তো নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে। আগের প্রজন্মের কাছে  প্রযুক্তির এত অনায়াস আয়োজন ছিল না ,হাতের মুঠোয় সেলফোন ছিলনা,  আত্মীয়স্বজন বন্ধু বান্ধব ও কম বেশি  হাত বাড়ালেই পাওয়া  যেত। আর এখন নির্বান্ধব পুরী তে  বা অচেনা অজানা জগতে  কাউকে না পেলে কি দুঃখে থাকতে হবে? কভি নেহি।

আচ্ছা বলুন তো কে বেশি আনন্দে থাকে ? একজন  কিপটে মানুষ না হাতখোলা  ? ঠিক ধরেছেন। সবাই কে যারা দিতে পারে  তারা বেশি আনন্দে থাকতে  পারে।  প্রমান আছে বইকি। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা পত্রে বলছে   নিজের জন্যে নয়, অন্যের জন্য পয়সা খরচ করলে আখেরে আপনি আনন্দ বেশি পাবেন।গবেষণার তথ্য নাই বা ধরলাম, আমাদের সভ্যতায় দানের মাহাত্ব্য কে পুণ্য অর্জনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পাপ পুণ্যর বিচার থাক, মানসিক শান্তি বলুন বা সন্তুষ্টি এও ত বিরাট পাওনা। আনন্দর উৎস  তো তাই।আমার আশপাশের লোকজন যদি ভাল থাকে তাহলে তো আমিও ভাল থাকব। কিন্তু যার পয়সাকরি নেই ,কাজকর্ম নাই , কাঠবেকার  তার তো এমনিতেই মনে আনন্দ নাই । তার মনে আনন্দ কি করে আসবে?  পন্ডিতরা বলছেন টাকাপয়সা থাকলেই যে আনন্দে থাকবে তার কোন মানে নেই । হ্যাঁ হতে পারে একটা ভাল কাজ বা চাকরি , মাথার ওপর ছাদ বা খাদ্য সংস্থান থাকলে কিছুটা ভাল আমরা থাকি ।সেই হিসেবে  উন্নত দেশের লোকজনের আনন্দ বা সুখ  সবচাইতে বেশি হওয়ার কথা কিন্তু সব  হিসেব উলটে দিয়ে  ভুটানের মানুষ সবচাইতে সুখি । শরীরস্বাস্থ্য , মানসিক স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি, পারিপার্শ্বিক লোকজন,সমাজ জীবন, সুশাসন এইসব খুঁটিনাটি সমস্ত কারণ গুলোই নিরধারণ করছে ভাল থাকা, আনন্দে থাকা। আনন্দে থাকাটা  তাই কোন বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। সব কটা factors আমরা তো আর নিয়ন্ত্রন করতে পারবনা তাই যে কটা পারব সেগুলকেই না হয় একটু সযত্নে লালন করি।

তাহলে ব্যবসা করার ৫৫টা উপায়ের মত আসুন দেখি আমরা কয়টা আনন্দে থাকার উপায় আবিষ্কার করতে পারি। আমি না হয় আমার পছন্দসই .৭ টা পথ বলি বাকিটা আপনারা জানান।প্রত্যেকের আনন্দ ত আলাদা তাই আনন্দ তালিকা  দর্শনে ও  আনন্দ পাব এ আশা রাখি।

১) এমন একটা কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুন যা আপনাকে  খুশি রাখে, সে টা কোন hobby ও হতে পারে।

২)ঘরের বাইরে একটু ঘুরে আসুন, গাছপালা , খোলা মাঠে, জলের ধারে, প্রকৃতির মাঝে  ,খোলা আকাশের নিচে, কারন চার দেওয়ালের মধ্যে বেশিক্ষন থাকলে বিষণ্ণতা আসতেই পারে।

৩)নতুন কিছু শিখুন , নতুন কিছু করুন,নতুন কিছু পড়ুন,  নতুন কিছু জানুন, জিজ্ঞাসা টা কে সবসময় জাগিয়ে রাখুন।দেখবেন উৎসাহ পাবেন  কাজে।নতুন একটা বই  পড়তে পারেন বা নতুন সিনেমা দেখে আসতে পারেন ।

৪)প্রতিটি দিন উদযাপন করুন, হই হই করে বাড়ির লোকজন কে নিয়ে সময় কাটান,বন্ধুমহল, নিজের ভাললাগার মানুষজন দের সঙ্গে  গল্প করুন। সুন্দর স্মৃতি একান্তে বসে রোমন্থন করুন,album এর পাতা উলটান।

৫) নিজের অবস্থার সঙ্গে অন্যের অবস্থার তুলনা কক্ষনও ভুলেও করবেন না। অশান্তির শুরু এখান থেকেই।

৬)অন্যের জন্যে একটু সংবেদনশীল হন, অন্যের অনুভূতিগুলোকে বুঝতে চেষ্টা করুন, একটু সময় দিয়ে শুনুন অন্যের কথা  ।দেখবেন সেও আপনার সুখ দুখের ভাগিদার হয়ে উঠছে, নিজেকে এই পৃথিবী তে একা লাগবে না।

৭) নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন ,ইতিমুলক চিন্তাভাবনা করুন।

আনন্দে থাকুন ।।

Advertisements

9 Comments Add yours

  1. tapasree saha says:

    Satti Mon ta vhore gelo.asadharon

    Like

  2. jayatisblog says:

    অনেক ধন্যবাদ । আপনার ভাল লেগেছে এই আমার অনেক বড় পাওয়া।

    Like

  3. খুব ভাল লেখা. আমি আশা করি এইসব অনুসরণ করতে সক্ষম.
    You are a very versatile writer and the flow comes naturally. Please keep on writing.

    Liked by 1 person

  4. Sreyai Dattachaudhuri says:

    Khub bhalo laglo. Travelogue er pashapashi ei dikta bhari onnorokom sundor . Amar moto grihopalito aro jib mone hoy alo dekhte pabe.

    Like

  5. jayatisblog says:

    তোর ভাল লেগেছে জেনে খুব ভাল লাগল। কি যে বলিস! গৃৃহপালিত!। 🙂 🙂 গৃৃহ রক্ষক বল !আমরা অর্থ রোজগারটা কে বোধহয় বেশি প্রাধান্য দিই ভাল থাকার জন্য। কিন্তু মানব সম্পদ কে অবহেলা করি। চারা গাছ কে যত্ন না করলে বৃক্ষ হবে কি করে!এই বৃ্ক্ষই তো পরে আরো পাঁচ জন কে ছায়া দেবে।

    Like

  6. Sreyai Dattachaudhuri says:

    Khub sundor bolli. Ekdom positive attitude. Ebhabei bhabbo.☺

    Liked by 1 person

  7. jayatisblog says:

    Suman, Thanks again.তোর লেখা টা spam এ চলে গিয়েছিল। তোর ভাল লেগেছে জেনে খুব খুশি হলাম।

    Like

  8. Susmita Laskar. says:

    Khub bhalo likhechish – Jogot -e anondojognye amar nimontron. Aro erokom andhar periye jaoar poth dekhash.

    Like

  9. jayatisblog says:

    Thanks Susmita 🙂

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s