সাশিকো

বহুদিন আগে ( সাল টা ১৯৮৩ -১৯৮৪) দুরদর্শনে একটা জাপানী ধারাবাহিক সম্প্রচার হতো । “ ওশিন”।কিমোনো পরিহিত ছোট্ট মেয়ে ওশিন। সেই প্রথম জাপানী জীবন যাত্রার সঙ্গে আমাদের পরিচয়। ছোট্ট ওশিনের দুঃখে ভরা জীবনের সঙ্গে আমরা ও কখন যে জড়িয়ে পড়তাম বুঝতেও পারতাম না ।সুখ দুঃখ সব জায়গা তেই যেন এক ই রকম। কোথাও না কোথাও মিল থেকে ই যায় । তেমনি এক মিল আমি খুঁজে পেলাম হঠাৎ। জাপান এর সঙ্গে বাংলার!

অবসর সময়ে সেদিন ও বসেছিলাম ইন্টারনেট এ।pinterest এ মন দিয়ে খুঁজে চলেছি সুঁচি শিল্পের নক্সা…। ঠিক যেমন টা চাইছিলাম পেয়ে গেলাম। জাপানি সূচি শিল্পের নকশা। আর ও একটু নিখুঁত ভাবে দেখলাম। এতো আমাদের বাংলার কাঁথা সেলাই!! একই পদ্ধতি। রান সেলাই। শুধু জ্যামিতিক নকশার মুনশিয়ানায় এ যেন অন্য কোনও কিছু। গ্রাম বাংলার গাছপালা নদ নদী মাছ মানুষ যেমন বাঁধা পড়েছে নকশিকাঁথায় তেমনি জাপানি কাঁথা সেলাই এ বাঁধা পড়েছে গঙ্গা ফড়িং ,সমুদ্রের ঢেউ, মাছ আর কত কি!তফাৎ একটাই। আমাদের কাঁথা শিল্পে রঙ এর সমাহার অন্যদিকে জাপানি কাঁথা শিল্পে প্রধানত গাঢ় নীল কাপড়ে সাদা সুতোর নকশা।

মিল আর ও একটা আছে। পুরনো কাপড় কে ছিঁড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে , পরতে পরতে ভাঁজ করে তার ওপর সেলাই করে যেমন কাঁথার সৃষ্টি, তেমনি গরিব মানুষের পুরনো ছেঁড়া জামা কে সুতো দিয়ে সেলাই করে আরও কিছুদিন পরার উপযুক্ত করে দেওয়া থেকে এই সেলাই এর জন্ম…এই হল সাশিকো ।

জাপানের কৃষক ও জেলে সম্প্রদায় এর মধ্যে এই মোটা কাপড়ে সেলাই করা পোশাকের প্রচলন শুরু। একটাই সুবিধে ছিল এই পোশাকের, যে হেতু পরতের ওপর পরত তার ওপরে সেলাই করা হত এ সহজে নষ্ট হত না, ছিঁড়েও যেতো না। গরিব মানুষের জন্যে টেঁকসই ব্যবস্থা। প্রয়োজনেই এর সৃষ্টি , যদি ও এখন ফ্যাশান দুনিয়ায় সাশিকো রীতিমত কৌলীন্য অর্জন করেছে ।

সাশিকো র উৎপত্তি জাপানের উত্তরাঞ্চলে তহকু তে।সেইখানে হেম্প এর থেকে ই প্রধানত কাপড় বানান হত।১৬৪৩ সালের এক সরকারি নিয়ম অনুসারে জাপানে সামাজিক ভাবে অনগ্রসর মানুষের অন্য কোন তন্তু জাত কাপড় পরার অধিকার ছিলনা ।অতঃপর হেম্প এ তৈরি জামা আর সাশিকো সেলাই! ইতিহাস জড়িয়ে আছে সাশিকোর পরতে পরতে।

সাশিকো এর পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন আঙ্গিকে, বিভিন্ন রূপে পরিবর্ধিত হয়েছে । সেলাই হয়েছে নিঁখুত থেকে নিঁখুততর ।আমাদের দেশে যেমন এক সময় বিবাহযোগ্যা মেয়েদের সেলাই , হাতের কাজের গুরুত্ব অপরিসীম ছিল তেমনি জাপানে ও সাশিকো জানা টা মেয়েদের বিবাহের ক্ষেত্রে একটা বড় গুণ বলে ধরা হত।তাই সাশিকো প্রধানত মেয়েরা ই করে।এখন এই সাশিকো সেলাই দিয়ে কিনা তৈরি হচ্ছে… ব্যাগ, কাঁথা বা quilt, শার্ট, জামা এমন কি কুশন কভার।ইন্টারনেট থেকে অনুপ্রেরনা নিয়ে লেগে পড়লাম কাজে। জাপানি সাশিকো এবার নাস্তানাবুদ হল আমার হাতে।

Advertisements

6 Comments Add yours

  1. Sreyasi Dattachaudhuri says:

    Khub sundor likhechhish Jayati. Shabolil bhasha.Emon mil je achhe Japanese ar Banglar hater kaje jantum i na.😊

    Like

  2. jayatisblog says:

    Thank you Sreyasi. 🙂

    Like

  3. SUSMITA LASKAR says:

    Jayatiiiii – nokshi kanthar math ! Bangla theke sudur Japan poryonto bistrito . osadharon tor hater kaj ebong kalamer o – ekebare hate- kalame . khub sundor – susmita

    Like

  4. jayatisblog says:

    Susmita! Thank you… 🙂

    Like

  5. Maitreyee says:

    Jayati, Tomar lekha pore khub bhalo laglo. Tomar ashadharon hater Kaj dekhe chomtkrito holam. Apurbo 😊

    Like

  6. jayatisblog says:

    Thank you Maitreyee 🙂

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s